২৮ জুলাই ডিবি অফিসে ৬ জন সমন্বয়ক আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেন। কেন দিলেন? কারণ হিসেবে বলা হয়, তাদের বাধ্য করা হয়েছিল! কীভাবে বাধ্য করা হয়েছিল? শারীরিক-মানসিকভাবে নির্যাতন করে? তবে কি তারা মৃত্যুভয়ে ভীত ছিলেন বলেই আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিলেন? ২৮ জুলাই বিপ্লবীরা আপস করেছিলেন?? পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র বিপ্লবী, যারা প্রাণের ভয়ে আপস করেছিলেন।
অথচ রাজপথে, "আপস না সংগ্রাম" বলা বিপ্লবীরা ডিবি অফিসে সংগ্রাম না করে আপস করেছিলেন!!
২৮ জুলাই তারা যখন আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিল, তখন কি জনগণ তা মেনে নিয়েছিল? না, মেনে নেয়নি। উত্তরা, রামপুরা কিংবা যাত্রাবাড়ীতে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তারা কোনো সমন্বয়ক চিনতেন না।
তাই ২৮ জুলাই "সরকারের সাথে আপসকারী আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষক" হিসেবে নাহিদ ইসলামের নাম ইতিহাসে লেখা থাকবে।
আর ২৮ জুলাই নাহিদ ইসলামের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা জনগণ মেনে নেয়নি, তাই ২৮ জুলাই থেকে তিনি আন্দোলনে অপ্রাসঙ্গিক!!
এবার আসি ১ দফার আলাপ নিয়ে।
২৮ জুলাইয়ের পরই জনতা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে— হাসিনা আর না!!
৩ আগস্ট শহীদ মিনারে নাহিদ ইসলাম জনগণের পালস বুঝে স্রেফ ঘোষণা দিচ্ছেন ১ দফার। এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি নিজেকে আন্দোলনে প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা করেছেন, এবং আমরা আবেগী বাংলাদেশিরা তাকে সেই সুযোগ দিয়েছি।
এখন প্রশ্ন করি, যদি ৩ আগস্ট নাহিদ ইসলাম ১ দফার ঘোষণা না দিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতেন, তবে কি ছাত্র-জনতা তা মেনে নিত? কখনোই না, বরং তাকে ছুড়ে ফেলে দিত।
আচ্ছা, যদি তিনি ১ দফার ঘোষণা না দিতেন, তবে কি আন্দোলনের যে মোমেন্টাম ছিল তা থেমে যেত? একদমই না। বরং ১ দফার জন্য দেশ প্রস্তুত ছিল ২৮ জুলাইয়ের পর থেকেই।
যদিও বৈছাআর ব্যানারে আন্দোলন শুরুর পর পাবলিক ডোমেইনে প্রথম ১ দফার আলাপ দিয়েছিল (যদিও তা স্যাটায়ার ছিল) আরাফাত শৈশবের ফেসবুক পেজ আর তার সেই পোস্ট শেয়ার করেছিলেন ১ আগস্ট Meghmallar Bosu
এখন মূল আলাপ হচ্ছে— কেন আমাদের ১ দফার ঘোষণা নিয়ে কাউকে ঘোষক বানাতেই হবে??
এই ১ দফা তো বিএনপি-সহ সকল ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তি গত ১৬ বছর ধরে রোজ দিচ্ছিল। ১ দফা তো নতুন কিছু না!
এখন যদি ১ দফা হয় কোটা সংস্কার আন্দোলনের স্টেকহোল্ডার বৈছাআর অফিসিয়াল সরকারবিরোধী অবস্থানের ঘোষণা, তাহলে ঠিক আছে। সেই ক্ষেত্রে বলতে হবে, ৩ আগস্ট থেকে বৈছাআ অফিসিয়ালি সরকার পতনের আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে। যে আন্দোলন গত ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল শক্তি করে এসেছে। আর বৈছাআ হচ্ছে তার সর্বকনিষ্ঠ সদস্য, যারা ৩ আগস্ট থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে।
তাই ৩ আগস্ট নাহিদ ইসলাম ১ দফার ঘোষণা দিয়ে "১ দফার ঘোষক" কিংবা "নিজের ডেথ ওয়ারেন্টে সাইন করেছেন"— এমন চটুল আলাপ বা ন্যারেটিভ তৈরি করে বৈছাআ কিংবা নাহিদ ইসলামকে অযথা গ্লোরিফাই করবেন না।
বরং এই আলাপে বৈছাআ নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হলো। কারণ প্রসঙ্গক্রমে এই আলাপের মাধ্যমে অফিসিয়ালি সরকার পতনের আন্দোলনে তারা সর্বকনিষ্ঠ সদস্য প্রমাণিত হলো, আর তার ঘোষণা করলেন ১ দফার মাধ্যমে নাহিদ ইসলাম।
এখন দেখেন আপনারা যা ভালো মনে করেন!!